জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে জনগণের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের সংস্কৃতি থাকবে না। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ ও কার্যকর হবে। এ কারণে পুলিশকে আরও জনবান্ধব, পেশাদার ও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে একটি দক্ষ ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। প্রতিবছরের পুলিশ সপ্তাহকে তিনি আত্মসমালোচনা, মূল্যায়ন এবং জনগণের আস্থা অর্জনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে জনজীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ যে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম, তা নির্বাচনে তাদের ভূমিকার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্বব্যাপী দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সরকার পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নকে জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।