নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু, চার বছরের মধ্যেই পূরণ হবে সব অঙ্গীকার: মীর শাহে আলম

admin
By admin
3 Min Read

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী চার বছরের মধ্যেই ইশতেহারের সব অঙ্গীকার পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘পিপলস ম্যান্ডেট : সিটিজেন ডায়ালগ অন ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘ইশতেহার বাস্তবায়নের সংকট ও সম্ভাবনা : নগর উন্নয়ন ও জলবায়ু সহিষ্ণুতা’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই ইশতেহারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

তিনি জানান, সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে। নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দেশজুড়ে নতুন করে খাল খনন কর্মসূচিও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলেই সাধারণত সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে দায়ী করা হয়। তবে বাস্তবে রাজধানীর সব উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় সরকারের হাতে নেই। ফলে সেবার মান ও গতি বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

তিনি আরও বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক সিটি গভার্নেন্স ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। নগর ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নগরায়ণ ও পরিবেশ সুরক্ষার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর নদ-নদী ও খাল-বিল দূষণমুক্ত রাখতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে প্রতিটি বাসাবাড়িতে নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে রাজউক-এর সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কাঠামোয় রূপ দিতে সরকারের পক্ষ থেকে চীন-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া নানা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকারকে এগোতে হচ্ছে। তবুও এসব চ্যালেঞ্জ সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে নির্বাচনি ইশতেহারের বাকি সব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এপিই, সচেতন ফাউন্ডেশন ও ব্র্যাক সিথ্রিইআরসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করা হয়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *