জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর জনাব মোঃ খুরশীদ আলম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই দক্ষ ও মেধাবী ব্যাংকারকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারী, বিনিয়োগ গ্রাহক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা এবং শুভানুধ্যায়ীরা। এই সময়োচিত সিদ্ধান্তের জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে ইসলামী ব্যাংক ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারসহ বিভিন্ন মহলে এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি প্রনয়ন ও বাস্তবায়নে দক্ষ একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ব্যাংকের চালকের আসনে বসানোয় সেই সংশয় কেটে যেতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিয়োগের ফলে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে।
জনাব মোঃ খুরশীদ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক অনুষদ থেকে সফলতার সাথে স্নাতকোত্তর (এমকম) ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৮৮ সালে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন। সুদীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অসংখ্য বিভাগে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার এই বিশাল অভিজ্ঞতা ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিপালন (Compliance) নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নীতি প্রনয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Risk Management), অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি প্রধান অভিভাবক হিসেবে জবাবদিহি করবেন। দেশের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মোতাবেক ব্যাংক পরিচালনার মাধ্যমে তিনি ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
গ্রাহকদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করে এবং সরকারের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে গৌরবময় এই ব্যাংকটি তার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা বজায় রাখবে এবং কোনো কায়েমি বা স্বার্থান্বেষী মহল এর সাফল্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।