বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং কারিগরি শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জার্মানির সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মান রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জার্মানির অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল খাতের উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও জার্মানির সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে জার্মানির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাত নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে জার্মানির প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার অপরাধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।
জবাবে জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জার্মানি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন এবং বহিরাগমন-৩ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। জার্মানির সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।