দেশের ব্যাংক খাতে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ভিত্তিমূলক প্রশিক্ষণ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে বুধবার (৭ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ (বিআরপিডি) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
বিআরপিডি সার্কুলার নং-১০ অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে “নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের ভিত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা” অনুসরণ করতে হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও গ্রাহকসেবা সক্ষমতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তার চাকরি স্থায়ী করার আগে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। প্রশিক্ষণের মোট মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে অন্তত ১৪ সপ্তাহ। এর মধ্যে ৮ সপ্তাহ তাত্ত্বিক এবং ৬ সপ্তাহ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ থাকবে।
তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণে অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, আর্থিক বিশ্লেষণ, সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, গ্রাহকসেবা এবং নেতৃত্ব বিকাশ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও প্রশিক্ষণের বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।
ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের প্রধান কার্যালয় ও শাখা পর্যায়ে হিসাব খোলা, নগদ ব্যবস্থাপনা এবং কোর ব্যাংকিং সিস্টেমে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে অন্তত পাঁচ দিনের মাঠপর্যায়ের ফিল্ড প্লেসমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং অনুশীলনভিত্তিক “মক ব্রাঞ্চ” চালুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেও এই কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।