দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ আবারও নতুন গতি পেয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিভিন্ন সরকারি সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, যার ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ত্বরান্বিত হচ্ছে।
প্রবাসী আয়ে রেকর্ড
- ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড: প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০২৫ সালে ৩২.৮১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক পরিমাণ গৃহীত রেমিট্যান্স হিসেবে ধরা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এটি প্রায় ২২% বৃদ্ধি পেয়েছে।
- মাসিক রেকর্ড প্রবাহ: ডিসেম্বর ২০২৫ এ ৩.২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স হিসাবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরুতে প্রবাহ
জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রেমিট্যান্স: বিগত ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত, প্রবাসীরা ২.৭১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
একই পরিসরে চলতি অর্থবছরের (জুলাই ২০২৫ থেকে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) মোট রেমিট্যান্স মোট ১৮.৯৭ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১.৯% বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
অর্থনৈতিক পর্যালোচনা ও ব্যাংকিং খাতে প্রভাব
বিশ্লেষক এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ প্রেরণ চ্যানেলগুলোর প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের নীতিগত সহায়তায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ গত কয়েক বছরে দ্রুত বাড়ছে। এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বৃদ্ধি, ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট স্থিতিশীলতা, এবং মুদ্রানীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, প্রবাসী আয় দেশের জরুরি বৈদেশিক মুদ্রা ধারায় এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এবং অর্থবছর ২০২৫-২৬ এ রেমিট্যান্স ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পৌঁছতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক বৃদ্ধি খাতে বৈধতার বৃদ্ধি, হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেলের অবলুপ্তি, ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবার বিস্তার, এবং প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে দেশের প্রতি আস্থাবৃদ্ধি—এসব কারণগুলোর সমন্বয়ে ঘটছে। রেমিট্যান্স শুধু দেশের বিদেশি মুদ্রা জোগানই বাড়াচ্ছে না, এটি লোকাল ব্যয় করা, বিনিয়োগ এবং বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করেও অর্থনীতিকে সহায়তা করছে।