চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ৬ হাজার দক্ষ গাড়িচালক (ড্রাইভার) নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি’। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ (সোমবার), ১৮ মে ২০২৬ থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিকেটিটিসি) চালক বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক ইন্টারভিউ শুরু হচ্ছে।
এর আগে গতকাল রোববার, ১৭ মে ২০২৬ তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়োগের এই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাদের প্রতিষ্ঠানে ট্যাক্সি ও লিমুজিন চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, এই বিশাল কর্মী বহরের মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি নাগরিক। বাংলাদেশি চালকদের অসাধারণ কর্মদক্ষতা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে কোম্পানিটি নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রতিনিধি দল আরও জানায়, আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রথম দফায় দেড় হাজার (১,৫০০) চালক যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে চলতি বছর ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার বাংলাদেশি ড্রাইভার নিয়োগ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
সাক্ষাৎকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক দক্ষ ড্রাইভার নিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কর্মীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণত দুবাই যেতে একজন বাংলাদেশি চালকের অনেক টাকা খরচ করতে হয়। যেহেতু অধিকাংশ কর্মী দরিদ্র পরিবার থেকে আসেন এবং ঋণ নিয়ে বিদেশে যান, তাই তাদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাতে অভিবাসন ব্যয় (Migration Cost) সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী পাঠানোর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আল আনাস ওভারসিজ’-এর প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ড্রাইভারের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক নিয়োগের ব্যাপারেও দুবাইয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
উক্ত দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।