স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নরওয়ের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুরুত্ব পায়।
আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে নরওয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় নরওয়ের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করে জানান, ভবিষ্যতে নরওয়ে উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। এ প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, পাটজাত পণ্য ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়েজিয়ান বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ কারণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে নরওয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ইতিবাচক অবদানের কথাও উঠে আসে। উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন যে, এই জনগোষ্ঠী দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নরওয়ের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসেন আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একযোগে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।