শরিয়াহভিত্তিক ৬ ব্যাংকের নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংক

admin
By admin
2 Min Read

দেশের শরিয়াহভিত্তিক ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে গত কয়েক বছরে হওয়া নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক ছাঁটাই কার্যক্রম আইনসম্মত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে।

তদন্তাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে অতীতে প্রভাবশালী একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণকালে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। তারা যাচাই করছে—নিয়োগের আগে যথাযথভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না, প্রার্থীদের জন্য কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ভিত্তিতে অনেক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে। তবে এসব ছাঁটাই প্রক্রিয়াও কতটা বিধিসম্মত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একইসঙ্গে নিয়োগ ও ছাঁটাই—দুই বিষয়ই তদন্তের আওতায় এনেছে।

চাকরিচ্যুত কর্মীদের একটি অংশ সম্প্রতি ঢাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তাদের দাবি, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে অন্যায্যভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। অপরদিকে, ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি পালন করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সামগ্রিকভাবে, এই তদন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *