ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্র সীমান্তে আটক জেলেদের মুক্তির অংশ হিসেবে দুই দেশ পারস্পরিকভাবে ১৫১ জন জেলেকে বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে। কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এতে ভারতের ২৩ জন এবং বাংলাদেশের ১২৮ জন জেলে মুক্তি পেয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরের নির্ধারিত সীমান্ত এলাকায় উভয় দেশের কোস্টগার্ড জাহাজ উপস্থিত থেকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে জেলেদের নিজ নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
মাছ ধরার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এক দেশের জলসীমা অতিক্রম করে অন্য দেশের জলসীমায় প্রবেশ করার কারণে এসব জেলে আটক হন। নিয়ম অনুযায়ী আটক থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলেদের নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে নিয়মিতভাবে ভারতীয় কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এ ধরনের বিনিময় কার্যক্রম সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমাতে এবং জেলেদের দ্রুত দেশে ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
ভারতীয় কোস্টগার্ড সূত্রও জানিয়েছে, সমুদ্র সীমান্তে অনিচ্ছাকৃত প্রবেশ একটি নিয়মিত সমস্যা। বিষয়টি মানবিকভাবে সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে যৌথ টহল ও তথ্য আদান–প্রদানের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মুক্তি পাওয়া জেলেদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিজ নিজ জেলায় পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের কাছে ফেরার খবরে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিয়মিতভাবে জেলে বিনিময় হয়ে থাকে। তবে একসঙ্গে ১৫১ জন জেলের মুক্তি সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।