সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র (এসআইবিএল) ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর আলম। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ছিল একপেশে, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শনিবার (১০ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে জাফর আলম বলেন, গত ৬ মে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এসআইবিএলের এমডি নিয়োগ সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তাকে জড়িয়ে অসত্য ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তার দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাফর আলম জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে ছয়জন প্রার্থীর সঙ্গে তিনিও অংশ নেন। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তিনি ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসআইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় ব্যাংকের বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স আহরণে ব্যাংকের অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছিল এবং শ্রেণীকৃত বিনিয়োগ নেমে এসেছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশে। এছাড়া প্রায় ২০টি নতুন ডিপোজিট ও বিনিয়োগ পণ্য চালু করা হয়েছিল।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে জাফর আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বোর্ড চেয়ারম্যান তাকে পদত্যাগের কথা জানালে তিনি ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বোর্ড তার পদত্যাগপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেছে এবং পদত্যাগ অনুমোদনের বিষয়টিও তাকে প্রায় ১০ মাস পরে জানানো হয়। এতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি ২০১৭ সালে একটি বিশেষ বৈঠকে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অস্বীকার করেন। তার দাবি, ওই সময়ে তিনি অন্য একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন এবং এসআইবিএলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
৩৪ বছরের ব্যাংকিং জীবনে নীতি ও নিয়মের বাইরে কখনও কাজ করেননি উল্লেখ করে জাফর আলম বলেন, প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে তিনি ক্যারিয়ার গড়েছেন। তাই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হলে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হবে এবং একজন ব্যক্তি হিসেবে তার ন্যায্য অধিকার কিছুটা হলেও ফিরে পাবেন।