ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির প্রায় ৬৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সম্প্রতি আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং আদালত তা গ্রহণ করেছে।
অভিযোগপত্রে কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. হেমায়েত উল্যাহসহ মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়, যার তদন্তভার পরে ডিবি পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া চিঠি ও ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে কোম্পানির বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে অর্থ সরিয়ে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়ে যান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসাত করা অর্থের মধ্যে ঢাকার তোপখানা রোড ও কাকরাইল এলাকায় ভবন ও জমি কেনার নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া মিরপুরের একটি জমির উন্নয়ন ব্যয়ের নামেও বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এই অনিয়মের কারণে বর্তমানে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক এবং হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার আরেক অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান এম এ খালেক কারাগারে থাকা অবস্থায় গত বছর মারা যান। এছাড়া তদন্তে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে সেখানে একাধিক কোম্পানি গড়ে তোলা হয়েছে।
বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি জানান, কোম্পানির হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।