দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহালের দাবি জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের দুই সংসদ সদস্য। তারা বলেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যেসব ব্যাংককর্মী চাকরি হারিয়েছেন, তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে পুনরায় কাজে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি তোলেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। আলোচনায় চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে পটিয়ায় বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী ব্যাংকের চাকরি থেকে ছাঁটাই হয়েছেন। তার মতে, এসব মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং তাদের পুনর্বহাল করা সময়ের দাবি।
একই আলোচনায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদও একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত না হয়, তবে তাদের আবার চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
সংসদে আলোচনায় উঠে আসে, অতীতে কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্দিষ্ট একটি শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সময়ের নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়। এতে হাজার হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
চাকরিচ্যুতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের অনেককে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশেষ করে কয়েকটি ইসলামী ধারার ব্যাংকসহ মোট ছয়টি ব্যাংক থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে একযোগে বাদ দেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ছাঁটাইয়ের ফলে কর্মসংস্থানের বড় সংকট তৈরি হয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
এদিকে সংসদের একই অধিবেশনে অন্যান্য বিষয়ও আলোচিত হয়। কিছু সদস্য রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, অন্যরা অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। কেউ কেউ মনে করেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার ইস্যুতে আরও স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, বর্তমান সময়ে ভুয়া তথ্য, গুজব এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভবিষ্যতে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন কয়েকজন সংসদ সদস্য।
সর্বশেষে, সংসদ অধিবেশন সাময়িক মুলতবি করা হয় এবং পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন সবার নজরে।