ঢাকা, ৮ মে ২০২৬: বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল, তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশও এখন সেই পথে এগোতে চায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু এতদিন সবচেয়ে বড় বাধা ছিল নীতিগত সীমাবদ্ধতা। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটির একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নীতিমালার মৌলিক কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা সহজে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ জন্য কর ছাড়, সহজ অর্থায়ন ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের মধ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এরপর জুন মাসে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা সরকারি আদেশ হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করতে পারবেন। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভবন মালিক ব্যবহার করবেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, নেট মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে মাস শেষে বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করা হবে। এতে ভবন মালিক যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি উদ্যোক্তারাও লাভের সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে দেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাও উপস্থিত ছিলেন।