ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি
২০২৫ সালে বাংলাদেশে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল বা ভিত্তিহীন তথ্যের (মিথ্যা/বিভ্রান্তিমূলক তথ্য) প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফ্যাক্টচেক সংস্থা সমীক্ষা অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটের কারণে ২০২৫ সালের পুরো বছর জুড়ে ভুল তথ্যের সংখ্যা সর্বাধিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জানুয়ারি ২০২৬-এর ভুল তথ্যের রেকর্ড
বাংলাদেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, শুধুমাত্র জানুয়ারি ২০২৬ মাসে ৫৭৭টি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা এক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর মধ্যে রাজনৈতিক বিষয়ক ভুল তথ্যের সংখ্যা ৪৬৯, যা মোটের প্রায় ৮১%।
এই ভুল তথ্যগুলোর মধ্যে
- ৪১৯টি সম্পূর্ণ মিথ্যা
- ১২৩টি বিভ্রান্তিকর
- ৩৪টি ভুল ব্যাখ্যা/ভ্রান্ত রেফারেন্স
- এবং ১টি আংশিক ভুল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশে ভুল তথ্যের বৃদ্ধি
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিকটবর্তী হওয়ায় ভুল তথ্যের প্রবাহ আরও তীব্র হয়েছে। ডিসেম্বর ১৬ থেকে জানুয়ারি ১৫ পর্যন্ত চলমান তথ্য বিশ্লেষণে খুঁজে পাওয়া গেছে ৮৯টি পৃথক নির্বাচনী ভুল তথ্য, যা আগের মাসের তুলনায় ৪১% বৃদ্ধি।
কিছু তথ্য এমনভাবে ঘুরপাক খেয়েছে যে আমজনতার মনে নির্বাচনের স্থির সময়সূচি ও ইভেন্ট সম্পর্কে সংশয় তৈরি হয়েছে, এমনকি “নির্বাচন হবে না” বা ইসি মন্তব্য হিসেবে ভুল ভাষ্য! ইত্যাদি দাবি ছড়ানো হয়, যা বাস্তবে সত্য নয়।
ব্যাপকভাবে ছড়ানো ভুল তথ্য
২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে,
ফেব্রুয়ারিতে এক মাসে ২৬৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছিল, যার প্রায় অর্ধেকই রাজনৈতিক বিষয় জড়িত।
জুনে অন্তত ৩১১টি ঘটনা পাওয়া গেছে, যেখানে সামাজিক ইস্যু, আন্তর্জাতিক খবর ও বিনোদন-সংক্রান্ত ভুল তথ্যও সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
অনলাইনে ভুল ভিডিও, কন্টেক্সটহীন ক্লিপ এবং বেমানান ছবি-ভিত্তিক পোস্টগুলো “cheapfake” নীতি অনুসারে ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে জনপ্রিয় ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তথ্য পরিবেশ ও সামাজিক চাপ
একটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “ভুল খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য” দেখতে পায়, এবং এটি তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মানসিক চাপের কারণগুলোর একটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল মিডিয়া ও সাধারণ তথ্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির অভাব এই প্রবণতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষক ও সরকারি প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন যে মিথ্যা তথ্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি ও ভুল ধারনা প্রচারে সহায়ক হচ্ছে। বিশেষত রাজনৈতিক তথ্য, জাতীয় ইস্যু, সামাজিক আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে ভুল তথ্য বেশি ছড়াচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি ফ্যাক্টচেকিং সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে সাধারণ মানুষকে নির্ভরযোগ্য উৎস যাচাই করা, তথ্য উৎস সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর রিপোর্টিং টুল ব্যবহার করা উচিত।