নয়াদিল্লি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া সহায়তা প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য কোনো তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা ভারতের পররাষ্ট্র ও আঞ্চলিক কৌশলে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা শীতারামন লোকসভায় বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে যেখানে প্রায় ১২০ কোটি রুপি অনুদান বরাদ্দ ছিল, সেখানে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন কমলো বাংলাদেশের অনুদান
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে যে কূটনৈতিক শীতলতা ও নীতিগত দূরত্ব দেখা যাচ্ছে, তার প্রতিফলনই পড়েছে বাজেট বরাদ্দে। পাশাপাশি আগের অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ বাস্তবে খরচ না হওয়ায় সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজেট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের পুরোটা ব্যবহার হয়নি, যা নতুন বরাদ্দ নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।
চাবাহার বন্দরে শূন্য বরাদ্দ
এবারের বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো চাবাহার বন্দরের জন্য শূন্য বরাদ্দ। ইরানের এই বন্দরটি ভারত, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। গত কয়েক বছর ধরে প্রকল্পটিতে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা
- ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা,
- যুক্তরাষ্ট্রের চাপ,
- এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
ভারতের বিদেশি সহায়তা নীতিতে পরিবর্তন
বাংলাদেশ ও চাবাহার প্রকল্পে বরাদ্দ কমলেও ভারতের সামগ্রিক বিদেশি সহায়তা বাজেট পুরোপুরি কমেনি। ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারত তার কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করছে।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুদান কমলেও বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনই বড় সংকটে পড়ছে না, তবে এই বাজেট সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তৈরি করছে।