লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে ওই হামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
শনিবার (ঢাকা সময়) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে চলমান সহিংসতা পরিস্থিতি কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনছে না, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বাংলাদেশ এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলি হামলায় নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের মতো এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানায়।
এদিকে, বৈরুতে সংঘটিত হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক দীপালি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সরকার। তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লেবাননে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বরাবরই শান্তি, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি দ্রুত সহিংসতা বন্ধ এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সর্বোপরি, লেবাননের সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আবারও স্পষ্ট করেছে যে, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।