কৃষকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে টাঙ্গাইল সফরে যাওয়ার পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে অভূতপূর্ব গণসংবর্ধনায় সিক্ত হন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।
স্থানীয় জনগণ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তার দু’পাশে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তাদের হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা। অনেকেই ফুল ছিটিয়ে ও স্লোগানের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান, যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও আবেগঘন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান, সংসদ সদস্য মনজুরুল করিম রনি এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আজহারুল ইসলাম, আলম মাস্টার মাফিকুর রহমান সেলিম, শরিফুল ইসলাম সেলিম, ফারুক আহমেদ এবং মেজবাহ সেলিম। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি আরও বর্ণাঢ্য হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষক কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতায় কৃষক কার্ড একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা এবং বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পেতে পারবেন।
গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে এ ধরনের গণজমায়েত স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে সরকারের উদ্যোগগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সবমিলিয়ে, কৃষক কার্ড উদ্বোধন উপলক্ষে এই সফর শুধু একটি সরকারি কর্মসূচিই নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে জনগণের সঙ্গে সরকারের একটি সরাসরি সংযোগের প্রতীকী মুহূর্তে। গাজীপুরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস সেই বার্তাই বহন করে।