দেশে অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের সুরক্ষায় নতুন করে সতর্কতা ও নির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ভোক্তা অধিদপ্তর জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম শপ এবং অপরিচিত ই–কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। নগরজীবনের ব্যস্ততায় সময় বাঁচাতে অনেক ক্রেতা যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনলাইনে লেনদেন করছেন, যা প্রতারকচক্রের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে অনলাইন কেনাকাটাসংক্রান্ত অভিযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করা
- বিজ্ঞাপনের সঙ্গে মিল না থাকা বা নিম্নমানের পণ্য পাঠানো
- পণ্য ফেরত বা রিফান্ড দিতে অস্বীকৃতি
ভোক্তা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন
ফেসবুক পেজ বা অনিবন্ধিত ই–কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে কেনাকাটার আগে যথাযথ যাচাই না করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।
ভোক্তাদের জন্য নতুন সতর্কতা
অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিদপ্তর ক্রেতাদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে
- সরকারিভাবে নিবন্ধিত ই–কমার্স সাইট থেকে কেনাকাটা করা
- সম্ভব হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা গ্রহণ করা
- অস্বাভাবিক কম দামের অফার থেকে সতর্ক থাকা
- লেনদেনসংক্রান্ত রসিদ, ইনভয়েস ও চ্যাট সংরক্ষণ করা
প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে অথবা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত হটলাইনে অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ই–কমার্স খাতের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগ জোরদার না করা হলে সাধারণ ভোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন।