বিশ্বব্যাপী চলমান উত্তেজনার মাঝেই ইরানের তৈরি বহু সস্তা ড্রোন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে, আর এতে প্রতি ড্রোন ধ্বংসে ব্যয় হচ্ছে লাখ লাখ ডলার।
ইরানের ‘শাহেদ’ নামক কম খরচে উৎপাদিত ড্রোনের দাম মাত্র ৩৫ হাজার ডলার, কিন্তু সেগুলোকে ধ্বংস করতে প্রতিটি ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলে খরচ দাঁড়ায় ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত।
বর্তমানে তেহরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৫০০টিরও বেশি ড্রোন আকাশে ছুড়ে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালাচ্ছে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও আধাসামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর। ওপেন সোর্স তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ড্রোনের মজুত রয়েছে এবং প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তীব্র সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেয়।
২০২৫ সালের সেই উত্তপ্ত যুদ্ধকালেই যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গিয়েছিল। মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে ১৫০টি ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একটি থাড ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এবং তা পুনরায় তৈরি হতে তিন থেকে আট বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
বিশ্লেষকদের মতে এই বিশাল ব্যয়-অসামঞ্জস্যই পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীদের এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার এবং উন্নত লেজার প্রযুক্তির দিকে নজর দিচ্ছে। লেজার সিস্টেম দিয়ে প্রতি শটে খরচ মাত্র কয়েক ডলার হলেও, বর্তমানে তা সীমিত মাত্রায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইরানের বিপুল ড্রোন মজুত এবং তার ধারাবাহিক হামলা চলতে থাকায় সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।