মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরান-এ এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দাবি
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এখানকার যেকোনো সামরিক অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আইআরজিসির এক নৌ কমান্ডার দাবি করেছেন, প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
আঞ্চলিক বিস্তৃতি ও নতুন ফ্রন্ট
এদিকে লেবানন থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে কয়েক দফা রকেট নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে তুরস্ক দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমার কাছে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খামেনির শেষকৃত্য স্থগিত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে ঘিরে চলমান গুঞ্জনের মধ্যে তার শেষকৃত্য সংক্রান্ত কিছু কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইরান ও ইসরায়েল—উভয় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে তেলবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ দ্রুত সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসেনি।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে।