ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পথে এগোলেও, নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরান আলোচনার লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।
ইরানি সূত্র অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, উভয় পক্ষ সম্মত হলে এই আলোচনার সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল স্পষ্ট করে বলেছে, এই সংলাপকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়। আলোচনায় উত্থাপিত শর্তগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না তেহরান।
ইরানের প্রস্তাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কমানোর আহ্বান। পাশাপাশি ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়েও জোর দিয়েছে তেহরান। প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব
- যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা
- ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি
- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
- যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ
- আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ইরানবিরোধী প্রস্তাব বাতিল
- সব ধরনের (প্রাথমিক ও পরোক্ষ) নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
- ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরান কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে এবং একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থানকে বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তগুলো কতটা গ্রহণ করবে, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের সম্ভাব্য বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।