বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিজ সারাহ কুক। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের আর্থিক খাতের চলমান সহযোগিতা, ব্যাংকিং সংস্কার, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি বিষয়ক পরামর্শক ফারহানুল গণি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন মিজ এমা উইন্ড ও ইসাম মোসাদ্দেক।
আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে দেশের আর্থিক খাতকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেমেন্ট সিস্টেম আধুনিকায়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের সংস্কার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে ব্যাংক রেজুল্যুশন অ্যাক্টসহ আর্থিক খাত সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে। এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে আসন্ন FATF Mutual Evaluation নিয়েও আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন, ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং ভিসা আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাইয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের আর্থিক খাতের উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার প্রতিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে আর্থিক খাতে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করবে এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যাংকিং, আর্থিক নিরাপত্তা ও সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে যৌথ উদ্যোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।