আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদুল আজহার ছুটি কার্যকর থাকবে। এর আগে ২৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি নির্ধারিত থাকলেও এবার একদিন বাড়িয়ে ২৫ মে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, ঈদের দীর্ঘ ছুটি সমন্বয়ের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার, ২৩ মে অফিস খোলা থাকবে। একই সঙ্গে রোববার, ২৪ মে ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ছুটির ভারসাম্য বজায় রাখতে আগের দুই দিন কর্মদিবস হিসেবে গণ্য হবে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। তবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে ঈদ উপলক্ষে বাড়তি ছুটির সিদ্ধান্ত। প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ গ্রামের বাড়িতে যান। দীর্ঘ ছুটি ঘোষণার ফলে এবারের যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ছুটি থাকায় কর্মজীবী মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট ও বিনোদনস্থলে দর্শনার্থীর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো। সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট কমাতে বিশেষ ব্যবস্থার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এই বাড়তি ছুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কোরবানির প্রস্তুতি, কেনাকাটা এবং গ্রামে যাতায়াতের জন্যও মানুষ পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাজার, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবাখাতে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতির আমেজ শুরু হয়েছে। সরকারের এই সাত দিনের ছুটির ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঈদ উৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।