রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মকর্তা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচিতে তারা চাকরিতে পুনর্বহালসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, তারা মূলত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি ব্যাংক থেকে ছাঁটাই হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
প্রতিবাদকারীদের প্রধান দাবি তিনটি। প্রথমত, অবিলম্বে সব চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাকে তাদের পূর্বের পদে পুনর্বহাল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিক সাইফুল আলম (এস আলম)-এর হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃতীয়ত, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুনভাবে প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির পক্ষে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ব্যাংকিং খাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ করে চাকরি হারাতে হয়েছে। এতে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট ২০২৬-কে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর পূর্ববর্তী মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর ফলে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এবং তারা নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আরও সংগঠিত হচ্ছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পটিয়ার বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এটি সম্পূর্ণ অন্যায্য সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত এর সমাধান হওয়া উচিত।
প্রতিবাদকারীরা আরও জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান দেবে।
এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সার্বিকভাবে, ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন আইনের প্রভাবকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ একটি বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।