মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট (DOJ) সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টিন সম্পর্কিত নথি ও তথ্যভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় ব্যাচ প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত নথিতে রয়েছে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন পৃষ্ঠা, ১.৮ লাখের বেশি ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও। এই নথি Epstein Files Transparency Act অনুযায়ী প্রকাশিত হয়েছে।
এপস্টিন ফাইলস নিয়ে আগের বছর থেকেই নানা বিতর্কের জন্ম হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এপস্টিন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ধনকুবের এবং তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের কাছে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগ ছিল। যদিও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়ে দিয়েছে, “ক্লায়েন্ট লিস্ট” বা ব্ল্যাকমেইল করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কী আছে নতুন প্রকাশিত এ নথিতে
- প্রকাশিত নথিতে রয়েছে ইমেইল, যোগাযোগ, ফ্লাইট-লগ, ছবি ও ভিডিও।
- কিছু নথিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
- অনেক ফাইল সংবেদনশীল হওয়ায় রেড্যাকশন করা হয়েছে, বিশেষ করে ভুক্তভোগীদের পরিচয় রক্ষার জন্য।
- DOJ জানিয়েছে, এটি শেষ নথি প্রকাশ এবং তারা আইনানুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছে।
বিতর্ক এবং প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়
নথি প্রকাশ হলেও বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি।
- কংগ্রেসের কিছু সদস্য ও সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন যে গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও আটকে রাখা হয়েছে।
- রেড্যাকশন করার কারণে অনেক তথ্য অস্পষ্ট হয়ে গেছে, যা সন্দেহ ও বিতর্ক তৈরি করছে।
- প্রকাশিত ইমেইল ও ছবি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারলেও, এখনও কোনো নতুন অভিযোগ বা গ্রেপ্তার হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুরো নথি না দেখার কারণে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে যে সরকার কি সব তথ্য আড়াল করছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান সদস্য DOJ-কে দায়ী করছেন যে তারা পুরো প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। কিছু ভুক্তভোগীর প্রতিনিধি বলেছেন, রেড্যাকশন অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এপস্টিন ফাইলস এখনও জনমনের কাছে রহস্যময়। পুরো সত্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কের অবসান হওয়া দুষ্কর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।