দেশজুড়ে নির্বাচন‑সম্পর্কিত নিরাপত্তা এবং আইন‑শৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৭,০০০-এর বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার প্রায় সব জেলায় এই সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি জানিয়েছে, ভোটকালীন যে কোনো অশান্তি প্রতিরোধ এবং ভোটারদের নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোতায়েনকৃত সদস্যরা শুধুমাত্র সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবেন না, বরং ভোটকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শহর ও গ্রামাঞ্চলে নজরদারি চালাবেন। প্রয়োজনে তারা তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ করবেন যাতে আইন‑শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এই পদক্ষেপকে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা টহল, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি তাদের অবস্থান করছেন, যাতে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার ভোটকেন্দ্রে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি ভোটারদের জন্য নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়াচ্ছে।
বিজিবি জানাচ্ছে, সীমান্তে কোনো অবৈধ প্রবেশ বা অশান্তি সৃষ্টি হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ শহর ও গ্রামাঞ্চলে তৎপরতা থাকবে যাতে ভোটকেন্দ্রে কোন ধরনের অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারাদেশে মোতায়েনের পাশাপাশি বিজিবি বিভিন্ন স্থানে সড়ক, বাজার এবং জনসমাগমের স্থানগুলোতেও নজরদারি চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে ভোটাররা যে কোনো হুমকি, প্ররোচনা বা অশান্তির হাত থেকে নিরাপদ থাকবে। এছাড়া দুর্ঘটনা ও অপরাধ প্রতিরোধেও বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজিবি সদস্যদের এই ব্যাপক মোতায়েনের ফলে নির্বাচনকালীন শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং ভোটারদের নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে। এছাড়া মোতায়েনকৃত সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবে।
দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল ও পেট্রোলিং করা হচ্ছে। এর ফলে ভোটাররা নিরাপদভাবে ভোট দিতে পারবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ থাকবে।