দেশে আবারও বাড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম–এর প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের স্কুলে পাঠানো কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা খুব সহজেই একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুর কাশি, হাঁচি কিংবা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে। ফলে স্কুলের মতো ভিড়পূর্ণ পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশু এখনও পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়নি, তাদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই টিকাদান সম্পন্ন না হলে স্কুলে পাঠানোর আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। টিকা নেওয়া থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না, তবে জটিলতা অনেকটাই কমে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে কোনো শিশু জ্বর, ফুসকুড়ি বা কাশি-সর্দিতে আক্রান্ত হলে তাকে স্কুলে না পাঠিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্কুলে পাঠানোর আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
- শিশুর টিকাদান সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন
- জ্বর বা অসুস্থতা থাকলে স্কুলে পাঠাবেন না
- স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা খোঁজ নিন
- হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে শিশুদের অভ্যস্ত করুন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিস্থিতি গুরুতর হলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজনে কিছুদিন শিশুকে বাসায় রাখা যেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়। অভিভাবকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং সময়মতো টিকাদানই শিশুদের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।