নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

admin
By admin
4 Min Read

দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।

এই শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় স্বার্থ, জনগণের ক্ষমতা এবং সার্বভৌমত্বকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস।

তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। এবং যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস, সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।

তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে এটি বিএনপির একটি কৌশলগত ও বার্তাবহুল সূচনা।

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পুনঃউচ্চারণ

তারেক রহমানের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে “জাতীয় স্বার্থ” এবং “জনগণের অধিকার” বিষয়টি। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন হচ্ছে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসা এবং জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। কোনো বিদেশি শক্তি বা দেশের ওপর নির্ভর করে বিএনপি রাজনীতি করে না—এমন দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন,
আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ কারও করুণায় চলবে না। এই দেশ চলবে এ দেশের মানুষের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

জনসভায় তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন । ছবি: মীর আবদুল্লাহ

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্ন

বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনাও করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে পড়েছে, ভোটাধিকার কার্যত মানুষের হাতছাড়া হয়ে গেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন,
গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র মানে মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নিজের সরকার বেছে নেওয়ার অধিকার। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণে আক্রান্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হচ্ছে।

জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের অঙ্গীকার

নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন,
আমাদের রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য। দেশের তরুণ সমাজ, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বপ্ন পূরণে বিএনপি একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।

বিদেশনীতি প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা

তার বক্তব্যে পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে। সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে কোনো দেশের কাছে মাথা নত করা হবে না।

সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নয়- এমন বার্তাই দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা

তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। নেতাকর্মীদের শালীন আচরণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির শক্তি জনগণ, আর জনগণের আস্থা হারালে রাজনীতির কোনো অর্থ থাকে না।

তিনি বলেন,

দেশের মানুষ যদি আমাদের বিশ্বাস করে, তাহলে কোনো শক্তিই আমাদের রুখতে পারবে না।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *