ডেস্ক রিপোর্ট | শিক্ষা
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। যদিও দেশে এখনো সরকারিভাবে কোনো একক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং প্রকাশ করা হয় না, তবে শিক্ষা মান, গবেষণা সক্ষমতা, শিক্ষক–শিক্ষার্থী অনুপাত, অবকাঠামো, একাডেমিক সুনাম এবং নিয়োগকর্তাদের গ্রহণযোগ্যতা—এই সূচকগুলো বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সালের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ র্যাংকিং চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শিক্ষা বিশ্লেষক ও একাডেমিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পুরোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে।
শীর্ষ ৫ বিশ্ববিদ্যালয়
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
গবেষণা, একাডেমিক ঐতিহ্য ও জাতীয় নেতৃত্ব তৈরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো দেশের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক শাখায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
২. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বুয়েট দেশের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে এর সুনাম দীর্ঘদিনের।
৩. ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠক্রমের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
৪. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের অন্যতম বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও শিক্ষার মানে শীর্ষ সারিতে রয়েছে।
৫. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
শীর্ষ ৬–১৫ শক্ত অবস্থানের বিশ্ববিদ্যালয়
৬. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
বেসরকারি শিক্ষায় দীর্ঘ-স্থায়ী অবস্থান।
৭. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
অবিভক্ত শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি গুরুত্ব।
৮. চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
ইঞ্জিনিয়রিং অনুসৃত কাঠামো।
৯. ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
বেসরকারি গবেষণা-উদ্দেশ্যপূর্ণ শিক্ষা।
১০. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ স্থান।
১১. খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)
১২. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
১৩. রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)
১৪. ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ
১৫. ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা ও গবেষণায় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শীর্ষ ১৬–৩০ উদীয়মান ও উন্নয়নশীল বিশ্ববিদ্যালয়
১৬. আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ
১৭. আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৮. বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস
১৯. সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
২০. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২১. নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২২. যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২৩. ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
২৪. ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২৫. বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
২৬. ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক
২৭. গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
২৮. স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
২৯. নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
৩০. বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি
কিভাবে এই র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ র্যাংকিং তৈরিতে কয়েকটি মূল সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে
- শিক্ষার সামগ্রিক মান ও পাঠক্রম
- শিক্ষক ও গবেষণার সক্ষমতা
- গবেষণা প্রকাশনা ও জাতীয় অবদান
- অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ
- গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের গ্রহণযোগ্যতা
- দেশীয় একাডেমিক সুনাম ও জনপ্রিয়তা
এই সূচকগুলোর সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।