নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর অর্ধমাস পেরিয়ে গেলেও দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে এখনো পৌঁছায়নি পাঠ্যবই। জানুয়ারির প্রথম অর্ধেক শেষ হলেও পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে।
জানুয়ারির প্রথমার্ধ পেরোলেও শেষ হয়নি পাঠ্যবই বিতরণ
নিউজ দি-২৪
শ্রেণিকক্ষে বই ছাড়া পাঠদান
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বহু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই ছাড়াই ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। শিক্ষকরা বিকল্প হিসেবে পুরোনো বই, হাতে লেখা নোট কিংবা বোর্ডে লিখে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে এবং পাঠের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
কোন স্তরে বেশি সংকট
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছু শ্রেণির বই মুদ্রণ ও সরবরাহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন বা সংশোধিত পাঠ্যক্রমের বই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো পৌঁছায়নি। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে সংকটের মাত্রা বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রশাসনিক ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীল দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাগজ সংকট, মুদ্রণ সময়সূচির জটিলতা এবং পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাকি বই বিতরণ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগ
পাঠ্যবই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ও আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই হাতে না থাকলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সময়মতো বিতরণের গুরুত্ব
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পাঠ্যবই বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। নিয়মিত ও পরিকল্পিত পাঠদানের জন্য সময়মতো বই সরবরাহ অপরিহার্য।
জানুয়ারির প্রথম অর্ধেক পার হলেও পাঠ্যবই বিতরণ সম্পন্ন না হওয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, তদারকি ও জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।