পদ্মা সেতু চালুর সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই টোল আদায়ে তিন হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেতুটি থেকে মোট প্রায় ২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা আদায় হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে এই অঙ্ক তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয় ২৫ জুন ২০২২। চালুর পর থেকে সেতু ব্যবহারকারী যানবাহনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যানবাহন পদ্মা সেতু ব্যবহার করেছে।
যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে প্রভাব
পদ্মা সেতু চালুর ফলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা সরাসরি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। ঢাকা থেকে খুলনা ও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিপণ্য, মাছ ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগও বেড়েছে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদ্মা সেতুর টোল থেকে অর্জিত রাজস্ব দিয়ে প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ বন্ধ রয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
অনেকের মতে, টোল আদায়ের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ প্রয়োজন।