মশার ভনভন আওয়াজ আসলে কীভাবে তৈরি হয়, মশার মুখ না ডানা ?

admin
By admin
2 Min Read

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় কানে ভেসে আসা মশার ভনভন আওয়াজ বহু মানুষের জন্য পরিচিত এক বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। চোখে না দেখলেও শব্দ শুনেই টের পাওয়া যায়, মশা খুব কাছেই উড়ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন প্রচলিত—মশার এই ভনভন শব্দ কি তার মুখ থেকে বের হয়, নাকি ডানা থেকেই সৃষ্টি হয়?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মশার ভনভন আওয়াজের উৎস মুখ নয়, বরং ডানা।

নিউজ দি ২৪

ডানা থেকেই তৈরি হয় শব্দ

বিজ্ঞানীদের মতে, মশা উড়ার সময় তার ডানাগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঝাপটাতে থাকে। এই ডানা ঝাপটানোর ফলে বাতাসে কম্পন তৈরি হয় এবং সেই কম্পন থেকেই শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। মানুষের কানে এই শব্দই ভনভন আওয়াজ হিসেবে ধরা পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মশা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ বার ডানা নাড়াতে পারে। এত দ্রুত ডানা ঝাপটানোর কারণেই শব্দটি হয় তীক্ষ্ণ ও উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির, যা মানুষের কানে সহজেই ধরা পড়ে।

মুখের ভূমিকা কী?

বিশেষজ্ঞরা জানান, মশার মুখের অংশ—যাকে প্রোবোসিস বলা হয়—মূলত রক্ত শোষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। শব্দ তৈরির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, মশা কামড় দেওয়ার সময় নয়, বরং উড়ার সময়ই শব্দ তৈরি করে।

তবে একটি বৈজ্ঞানিক দিক বেশ আগ্রহজনক। পুরুষ ও স্ত্রী মশার ডানা ঝাপটানোর ফ্রিকোয়েন্সি আলাদা হয়। এই ভিন্ন ভিন্ন শব্দের মাধ্যমেই তারা একে অপরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

কেন শব্দটি এত বিরক্তিকর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের নীরব পরিবেশে মশার ভনভন আওয়াজ আরও স্পষ্ট শোনা যায়। পাশাপাশি মানুষের মস্তিষ্ক এই শব্দকে সম্ভাব্য বিপদের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে সামান্য শব্দ হলেও তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং অস্বস্তি বাড়ায়।

স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত

চিকিৎসকদের মতে, মশার শব্দ শোনা মানেই সতর্ক হওয়ার সময়। কারণ মশা শুধু বিরক্তির কারণই নয়, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের বাহক হিসেবেও পরিচিত।

সংক্ষেপে

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মশার ভনভন আওয়াজ কোনো রহস্যময় মুখের শব্দ নয়। এটি তার ডানা ঝাপটানোর স্বাভাবিক ফল। শব্দ যত কাছ থেকে শোনা যায়, মশাও তত কাছেই অবস্থান করে—এটাই বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *