দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও আগাম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে এডিস প্রজাতির মশার বংশবিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পর বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা দ্রুত জন্ম নিচ্ছে, যা ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কোন কোন এলাকায় ঝুঁকি বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে
- ঢাকা মহানগরের কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা
- আশপাশের শিল্পাঞ্চল
- অপরিকল্পিত আবাসিক ও নির্মাণাধীন ভবনঘেরা অঞ্চল
এসব এলাকায় মশার লার্ভা পাওয়ার হার বেশি থাকায় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা ও শরীর ব্যথা নিয়ে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে, যা ডেঙ্গুর জটিল রূপের ইঙ্গিত দেয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু ও বয়স্করা ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। একজন চিকিৎসক বলেন
ডেঙ্গু অবহেলা করলে জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছে
- বাড়ির আশপাশে কোথাও পরিষ্কার পানি জমতে না দেওয়া
- ফুলের টব, ড্রাম, পানির ট্যাংক ও ফ্রিজের ট্রে নিয়মিত পরিষ্কার করা
- দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা
- জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ নিজের ইচ্ছেমতো খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের ভূমিকা
এদিকে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত লার্ভা শনাক্তকরণ, ওষুধ ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অবহেলা থেকেই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সতর্কতা।