মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরান সরকার ও সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তাও দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সরকারি সূত্র জানায়, মার্কিন বাহিনীর নৌবহর ও যুদ্ধবিমান পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে সক্রিয় থাকায় দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।
কেন বাড়ছে হামলার আশঙ্কা ?
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক হামলার অভিযোগ
- ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা
- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ
এই সব ইস্যু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের প্রস্তুতি ও অবস্থান
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট এবং নৌবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সামরিক মহড়া জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে,
ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তার জবাব হবে কঠোর, দ্রুত এবং স্মরণকালের মতো।

কূটনৈতিক বার্তা ও সতর্কতা
ইরান শুধু সামরিক প্রস্তুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে বার্তা পাঠিয়ে তেহরান জানিয়েছে—
তারা সংঘাত চায় না, তবে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তারা ইরানে হামলার জন্য নয়, বরং নিজেদের ঘাঁটি ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটনের এই বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় তেহরান।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে—
- মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বাজারে অস্থিরতা
- বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
- নতুন করে শরণার্থী সংকট
- আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চল দিয়ে বিশ্বে বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়, যা যেকোনো সংঘাতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মত
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় পক্ষই এখনো সরাসরি যুদ্ধে যেতে চায় না। তবে ভুল হিসাব বা আকস্মিক কোনো ঘটনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তারা বলছেন,
এই মুহূর্তে সংযম ও কূটনৈতিক সংলাপই একমাত্র পথ।