রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হকারদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উচ্ছেদের পর তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা যাবে না। দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন স্থান এমন হতে হবে যেখানে হকাররা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং ক্রেতারাও সহজে সেবা নিতে পারবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দখল করে থাকা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এতে শতাধিক হকার তাদের ব্যবসার স্থান হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য নির্দিষ্ট বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হবে এবং একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। এর ফলে হকারদের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং শহরের ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনাও উন্নত হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীর যানজট সমস্যা নিরসনেও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠ বা খোলা জায়গার একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। এতে সড়কে গাড়ির চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলও নিরাপদ হবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এবং ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন হকারদের জীবিকা সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে।