জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান যৌথভাবে উদযাপন এবং স্থানীয় একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা মিনিটে তিনি রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, ময়মনসিংহে পৌঁছানোর পর তিনি প্রথমে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে যাবেন। সেখানে স্থানীয় জনগুরুত্বপূর্ণ জলাশয় সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। এই খনন প্রকল্পটির মাধ্যমে এলাকার কৃষি সেচব্যবস্থা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এরপর, সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে বিকেল ৩টায় ত্রিশালের ঐতিহাসিক নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠে উপস্থিত হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রতিবছরের মতো এবারও কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে এই জাতীয় উৎসবের আয়োজন ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো এলাকা।
সাংস্কৃতিক ও সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি এই সফরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধিবেশনও থাকছে। বিকেল ৫টায় ত্রিশালের স্থানীয় নজরুল অডিটরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে একটি বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় হাইকম্যান্ড। আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সব কর্মসূচি সমাপ্ত করে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ ত্যাগ করবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রিশাল নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠ, বৈলর ইউনিয়ন এবং নজরুল অডিটরিয়ামসহ সমগ্র উপজেলা ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ত্রিশালের স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তীতে দেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।