দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ সময়ের মন্দা কাটিয়ে টানা আট মাস পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাসে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত রপ্তানি খাতের এই পুনরুদ্ধার ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি করছে।
এদিকে, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে চাপ কমছে এবং আমদানি ব্যয় নির্বাহে সরকার আরও স্বস্তি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স—এই দুই খাতের সমন্বিত প্রবৃদ্ধিই সামষ্টিক অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু তৈরি পোশাক খাতই নয়, বরং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতেও প্রবৃদ্ধি এসেছে। কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। এসব খাতের সম্মিলিত অগ্রগতিই সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের সময়োপযোগী নীতি সহায়তা, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে উৎপাদন খাতে স্থিতিশীলতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
তারা আরও মনে করছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি দ্রুতই আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে। একই সঙ্গে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য নীতি ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদার করা এবং নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক গতি দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।