বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ নতুন উড়োজাহাজ, বোয়িংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি

admin
By admin
2 Min Read

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা Biman Bangladesh Airlines তাদের বহর সম্প্রসারণে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় বহর বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ চুক্তিকে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে রয়েছে আটটি Boeing 787-10 Dreamliner, দুটি Boeing 787-9 Dreamliner এবং চারটি Boeing 737-8 MAX। এসব অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহরে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির মোট তালিকামূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমান। এ বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট এবং স্বল্প ও মধ্যপাল্লার আঞ্চলিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং এভিয়েশন খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বিমানের বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নতুন প্রজন্মের জ্বালানি সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় পরিচালন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশবান্ধব বিমান পরিচালনায়ও অগ্রগতি আসবে।

সব মিলিয়ে, এই বহর সম্প্রসারণ শুধু বিমানের সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক এভিয়েশন খাতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *