বাংলাদেশ আকাশসীমা নজরদারিতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা, যা দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করে তুলবে। এই উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন পুরো দেশের আকাশসীমা শতভাগ নজরদারির আওতায় আসছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) সিস্টেম নির্মাণ করেছে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে আকাশে উড়োজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা আরও সহজ ও নির্ভুল হবে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে আসবে এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন দেশের আকাশসীমার কিছু অংশ আধুনিক নজরদারির বাইরে ছিল, যা এখন সম্পূর্ণভাবে কভারেজের আওতায় এসেছে। নতুন রাডার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উড়োজাহাজের অবস্থান, উচ্চতা ও গতিপথ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে শুধু নিরাপত্তাই নয়, আকাশপথ ব্যবস্থাপনায়ও গতি ও দক্ষতা বাড়বে।
এছাড়া এই আধুনিক এটিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ আর্থিকভাবেও লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর জন্য উন্নত নেভিগেশন সুবিধা নিশ্চিত হলে দেশের আকাশপথ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে। এর ফলে ওভারফ্লাইট চার্জসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
বিমান চলাচল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাবে। একইসঙ্গে দেশের বিমানবন্দরগুলো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
সরকারের এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে বিমান চলাচল খাতকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্মার্ট ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, অত্যাধুনিক রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থার সংযোজন বাংলাদেশের আকাশসীমা নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।