পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

admin
By admin
3 Min Read

দেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে সরকার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পর্যটন শিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে পরিণত করতে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ—এ লক্ষ্যেই ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য সুযোগ এবং জীববৈচিত্র্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। তাই এই অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা, চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা-আনোয়ারা সমুদ্র সৈকতের মৌলিক সুবিধাদি উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটাকে ঘিরে আরও বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘পায়রা-কুয়াকাটা কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান ফোকাসিং অন ইকো-টুরিজম’ শীর্ষক এই পরিকল্পনায় কুয়াকাটা সংলগ্ন সাতটি উপজেলা—গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালি, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী—অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানে ‘অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান’ প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে পর্যটন, অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যানের পর্যটন-সংক্রান্ত অংশ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হলে বিশেষ করে কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার পর্যটন খাতের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটা ও আশপাশের অঞ্চল নতুন করে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এবং দেশের পর্যটন খাত আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *