দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গভর্নর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রশাসকদের এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একীভূতকরণে বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ
বৈঠকে গভর্নর একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সিস্টেম একীভূত করতে দেরি হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি।
কর্মকর্তারা জানান, পৃথক ব্যাংকের তথ্য ও ডেটা সমন্বয় করাই এই বিলম্বের প্রধান কারণ। তবে গভর্নর স্পষ্ট করে দেন, এ প্রক্রিয়ায় আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের বড় আর্থিক সহায়তা
সরকার ইতোমধ্যে এই একীভূত ব্যাংকের জন্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমানত বিমা তহবিল থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এত বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার পর প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
যেসব ব্যাংক একীভূত হয়েছে
দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একত্র করে গঠন করা হয়েছে এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো
- এক্সিম ব্যাংক
- সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
- গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
- ইউনিয়ন ব্যাংক
করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা
বৈঠকে গভর্নর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোর দেন। এর মধ্যে রয়েছে
- খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়
- বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করা
- ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি সম্ভব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গভর্নর জানান, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগসহ প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই একীভূতকরণ সফল হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।