ডেস্ক রিপোর্ট | আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেলেও, জ্বালানি সহযোগিতায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নির্ভরতার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও নগর এলাকায় সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা কূটনৈতিক দূরত্ব থাকলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নে উভয় দেশ বাস্তববাদী অবস্থান বজায় রাখছে। আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরেই চাহিদা ও উৎপাদনের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। শিল্প উৎপাদন সচল রাখা, নগর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বজায় রাখতে আমদানি করা বিদ্যুতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, সমালোচকদের একটি অংশ আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ আমদানির শর্ত ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে একক বিদেশি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বিকল্প উৎসের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান বাস্তবতায় শিল্প ও অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে বিদ্যুৎ আমদানি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশীয় উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা থাকলেও আদানি গ্রুপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরছে—যেখানে রাজনীতির বাইরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।