বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি শ্লথ, এসডিজি বাস্তবায়নে সতর্ক বার্তা জাতিসংঘের

admin
By admin
2 Min Read

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু সংকট ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অর্জনের পথে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে অনেক দেশেই অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়েও পড়ছে।

দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে অগ্রগতি ধীর

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক দারিদ্র্য হ্রাস, ক্ষুধা মোকাবিলা এবং মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ঋণের চাপ, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখনও অসম। ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে, যা এসডিজি অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন বড় হুমকি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উন্নয়ন অর্জনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাপপ্রবাহ, বন্যা ও খরার কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। ফলে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে।

অর্থায়নের ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

জাতিসংঘের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতিবছর যে পরিমাণ অর্থায়ন প্রয়োজন, তার তুলনায় বড় ঘাটতি রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা দিতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং স্বল্পসুদে অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে অধিকাংশ লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না।

কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুশাসন, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জোরদার করা জরুরি।

বিশ্বনেতারা আগামী বৈশ্বিক উন্নয়ন সম্মেলনে এসডিজি অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। সেখানে অর্থায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ু পদক্ষেপ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের বিষয়ে নতুন অঙ্গীকার আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সময়ের জানালা দ্রুত বন্ধ হয়ে আসছে। এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *