দেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে এক বড় উদ্যোগ হিসেবে ১,৭১৯টি বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে এমপিওভুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে প্রথম পর্যায়ে ১,৭১৯টি বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে এমপিওভুক্তির তালিকাভুক্তির জন্য বিবেচনা করা হয়েছে। এই তালিকার বিষয়ে সম্মতি চেয়ে ইতোমধ্যেই অর্থ বিভাগে পত্র পাঠানো হয়েছে।
এমপিও বলতে বোঝায় ‘Monthly Pay Order’ — সরকারি তহবিল থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন‑ভাতার সরকারি অংশ প্রদান। এমপিওভুক্তি পাচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি সহায়তা পাবে, যা তাদের পরিচালনা‑ব্যয়ের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে
- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা‑২০২৫’ অনুযায়ী আবেদন আহ্বান করা হয়।
- মোট ৩,৬১৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং প্রাথমিকভাবে ১,৭১৯টি প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ করা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- প্রাথমিক তালিকা তৈরি হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন ও যাচাই‑প্রক্রিয়া এখনো চলমান — আবেদনকারীর তথ্য ভূমি মন্ত্রণালয়
শিক্ষাবোর্ড ও অনলাইন ডাটাবেজের মাধ্যমে যাচাই করা হবে, প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে তদন্তও হবে।
এই উদ্যোগ ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা‑২০২৫’ এর আওতায় নেওয়া হয়েছে, যা নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিকে এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মানদণ্ড ও মূল্যায়ন নির্ধারণ করে। নীতিমালার লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান ও মানবসম্পদ কাঠামো উন্নত করা।
এখন প্রাথমিক তালিকা পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য। অনুমোদন পেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর চূড়ান্ত এমপিওভুক্তি ঘোষণা ও সরকারি তহবিল থেকে বেতন‑ভাতার অর্থায়ন শুরু হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এটা একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া এবং মনিটরিং ও যাচাই অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করেছে যে এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সচেতনতা রাখা হোক এবং প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসারে সম্পন্ন হবে।
এই উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের দাবি ও শিক্ষা খাতের মান উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে খ্যাত। এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে আরও যাচাই ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।