বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের একটি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিপাহ ভাইরাস একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ভাইরাস হওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
WHO-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া আক্রান্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। নিপাহ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
কী এই নিপাহ ভাইরাস
নিপাহ ভাইরাস মূলত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা খেজুরের রসের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
লক্ষণ ও ঝুঁকি
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) দেখা দিতে পারে। রোগটির মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের প্রস্তুতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশের হাসপাতালগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইসোলেশনে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে কাঁচা খেজুরের রস পান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
WHO-এর পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জনগণকে নিয়মিত হাত ধোয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।