বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

admin
By admin
3 Min Read

দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়োপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানাগুলোতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বন্ধ কল-কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং পুনরুজ্জীবনের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তবে বিদ্যমান জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বাধা দূর করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, যেসব মন্ত্রণালয় বা সংস্থার অনুমোদন অপরিহার্য নয়, সেগুলো এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে। এতে করে সময় কমবে এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করতে পারলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন।”

বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানাগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই যথাযথ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং আগ্রহী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।

এছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেন, যেন বিনিয়োগবান্ধব ঋণনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে করে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি)-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

সরকারের এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *