গভীর শীতের মধ্যে আবারও ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার ফলে রাজধানী কিয়েভ সহ একাধিক বড় শহরে বিদ্যুৎ ও গরম পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শীতপ্রবাহের এই সময়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও সঞ্চালন লাইনে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানে। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট ও গ্যাস-চালিত প্ল্যান্ট। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয় এবং জরুরি ভিত্তিতে লোডশেডিং শুরু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বড় শহরে দুর্ভোগ
রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও খারকিভ, ওডেসা ও দনিপ্রো অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। অনেক আবাসিক এলাকায় গরম পানি ও হিটিং সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা তীব্র ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছেন। হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হলেও পরিস্থিতি নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসকরা।
শীতকালীন তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে। বেশ কিছু স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে কাঠ বা গ্যাস হিটার ব্যবহার করছে, যা অগ্নিকাণ্ড ও কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয় হামলাকারী বাহিনী। দেশটির প্রেসিডেন্ট দপ্তর বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে। যদিও স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমা দেশগুলো হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, শীতের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা মানবিক সংকট তৈরি করছে। তারা দ্রুত পুনর্গঠন ও জরুরি সহায়তা প্রদানে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শীতকালকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে ইউক্রেনের মনোবল ভেঙে দিতে চায় রাশিয়া। বিদ্যুৎ ও গরম পানির সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
পুনরুদ্ধার কার্যক্রম
ইউক্রেনের জ্বালানি প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও সাবস্টেশন দ্রুত মেরামতে কাজ শুরু করেছেন। জরুরি মেরামত দলগুলো তুষারপাত ও ঠান্ডা উপেক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। সরকার নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার অনুরোধ করেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে নতুন হামলা না হওয়া এবং আবহাওয়ার ওপর। তবে আপাতত ইউক্রেনের লাখো মানুষকে গভীর শীতের মধ্যেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।