দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করা সবার জন্য একটি ঈমানি দায়িত্ব—এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, সঠিক প্রার্থীকে ভোট দেওয়া শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার বিষয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নওগাঁ পৌরসভার আরজি-নওগাঁ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এই জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, ভোট একটি আমানত। এই আমানত যাকে দেওয়া হবে, তাকে চিনে-বুঝে দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, যারা ইসলামী মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে, তাদের পক্ষেই ভোট দেওয়া উচিত। তার মতে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সেই ন্যায় ও ভারসাম্যের প্রতীক বহন করে।
তিনি আরও বলেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে তার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তখন যদি প্রশ্ন আসে—তুমি কার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলে, কী উত্তর দেবেন? এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটকে ধর্মীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করেন।
কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতা কাউকে জান্নাতে বা জাহান্নামে নিতে পারবেন না। তবে একজন ভোটার হিসেবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া মানুষের নিজের দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার রাজনীতিতে দুর্নীতি, অবিচার ও মানুষের অধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে মুক্তির জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যারা ভোট পেয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তারা আমানতের খেয়ানত করে। এ ধরনের নেতৃত্ব থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে ভোটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
এদিকে, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক বক্তব্যেরই একটি অংশ।