ভাসানচর এখন সন্দ্বীপের অংশ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

admin
By admin
3 Min Read

দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক ও সীমানা টানাপোড়েনে উত্তপ্ত থাকা ভাসানচরের মালিকানা বিষয়ে অবশেষে স্থির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সরেজমিন পরিদর্শন, ঐতিহাসিক দলিল যাচাই এবং স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি কারিগরি কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে মন্ত্রণালয় ভাসানচরের ছয়টি মৌজাকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করেছে, যা দুই উপজেলার দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে।

ভাসানচর দ্বীপটি সন্দ্বীপের একটি প্রাকৃতিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর আগে ২০১৭ ও ২০২১ সালে ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অংশ বলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করায় স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক সীমানা বিরোধ দেখা দেয়। সন্দ্বীপের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন বহু বছর ধরে ভাসানচরকে তাদের ঐতিহাসিক ও ভূগোলিক অধিকার হিসবে দাবি করে এসেছে, বিশেষ করে বিলীন হওয়া ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নের জায়গায় নতুন চর হিসেবে জেগে ওঠায় এই দাবি আরও জোরদার হয়।

দীর্ঘ সীমানা বিতর্কের পটভূমি

ভাসানচর মূলত বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মেঘনা নদীর পলি ভরাট হয়ে গঠিত নতুন চর। সন্দ্বীপ ও হাতিয়া উভয় উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বীপটির মালিকানা বিষয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। সন্দ্বীপের পক্ষ মনে করেছিল, এই চর তাদের পূর্বের ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নের ভূমিরই সম্প্রসারিত অংশ, আর তাই এটি সন্দ্বীপের অন্তর্গত হওয়া উচিত। বিপরীতে, ২০১৭ সালে সরকারি পর্যায়ে এটি হাতিয়া উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি ও পরে থানা গঠন করা হয়েছিল, যা হাতিয়ার অধিপত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল।

ভাসানচর

সীমানা জটিলতা নিরসনের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের অফিস একটি কমিটি গঠন করে বিশেষ অংশীদারদের নিয়ে তদন্ত করে। এসব সন্ধান ও বিশ্লেষণ সংগ্রহের পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের ফাইনাল সিদ্ধান্ত আসে।

সন্দ্বীপবাসীর প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি দীর্ঘ দিনের দাবি ছিলো ভাসানচরকে সন্দ্বীপের সঙ্গে যোগ করা ও সীমানা নির্ধারণে স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা দেয়া। বছরের পর বছর ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক পর্যায়ে নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই দাবি জানিয়ে আসছিল। সীমানা টানাপোড়েনের অবসানে বহু মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, যদিও ভবিষ্যতে অন্যান্য আইনি বা প্রশাসনিক বিষয় উঠতে পারে।

ভূগোল ও জরিপের ভূমিকায় পরিবর্তন

গত কিছু সময় ধরে গবেষকরা ও সরকারি সংস্থাগুলো স্যাটেলাইট ও মাঠ পর্যায়ের জরিপের মাধ্যমে নতুন চরগুলোর অবস্থান ও মালিকানা নির্ধারণে কাজ করছিলেন। এর ফলে সন্দ্বীপ ও ভাসানচরের মধ্যকার ভূগোলগত সম্পর্কও নতুনভাবে বোঝা সম্ভব হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত এলাকায় ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে দেবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *